সাদা আকন্দ গাছের টোটকা - আকন্দ গাছ বাড়িতে লাগালে কি হয়

প্রিয় পাঠক আমরা গ্রাম অঞ্চলে বা যেখানে বসবাস করি না কেন আমাদের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা বিভিন্ন ধরনের ঔষধ এর প্রয়োজন হয় অসুস্থ হলে তবে কিছু গাছ রয়েছে যেই গাছগুলি দিয়ে আপনি সে সমস্ত রোগের নিরাময় করতে পারবেন
সাদা আকন্দ গাছের টোটকা - আকন্দ গাছ বাড়িতে লাগালে কি হয়
যে সমস্ত রোগের আপনি বিভিন্ন ধরনের ঔষধ খেয়েছেন কিন্তু কোন কাজে আসে নাই বিভিন্ন ধরনের ডাক্তার দেখিয়েছেন যারা আপনাদেরকে ওষুধ দিয়েছে কিন্তু কাজে আসে নাই হ্যাঁ আমি আপনাদের সামনে আকন্দ গাছের কথা বলছি যে গাছটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং অত্যন্ত উপকারী যদি আপনারা তার উপকার সম্পর্কে জানতে চান আমাদের সাথেই থাকুন

সূচিপত্রঃসাদা আকন্দ গাছের টোটকা - আকন্দ গাছ বাড়িতে লাগালে কি হয়

  • প্রচলিত নাম
  • বৈজ্ঞানিক নাম
  • কোন কোন অংশ ব্যবহার করা যায়
  • রসায়নিক উপাদান কি কি রয়েছে
  • প্রধান কাজ
  • হজম শক্তি বৃদ্ধি করার জন্য ব্যবহার করা হয় ও পাকস্থলীর ব্যথা দূর করার জন্য ব্যবহার করা হয়
  • বাতের ব্যথা ও ফোলা দূর করার জন্য ব্যবহার করা হয়
  • দাউদের চিকিৎসার জন্য এবং বিচ্ছুর কামড় এর জন্যব্যবহার করা হয়
  • ফুট দূর করার জন্য ব্যবহার করা হয়
  • অর্শ বলির জন্য ব্যবহার করা হয়
  • অযুর্ণ হলে ব্যবহার করা হয়
  • হাঁপানির রোগের জন্য ব্যবহার করা হয়
  • ছুলি ও মেছতার জন্য ব্যবহার করা হয়
  • একজিমা ও চর্ম রোগের জন্য ব্যবহার করা হয়
  • বিচ্ছুর কামড় দূর করার জন্য ব্যবহার করা হয়
  • কানের যন্ত্রণার জন্য ব্যবহার করা হয়
  • রক্ত আমাশয়ের জন্য ব্যবহার করা হয়
  • সর্দি লাগলে ব্যবহার করা হয়
  • আকন্দ গাছের আরো অপকরণ
  • সেবন বিধি
  • সতর্কতা
  • শেষ কথা

প্রচলিত নাম

প্রিয় পাঠক প্রচলিত নাম হলো আকন্দ অথবা দুধ গাছ বলে সকলেই জানেন

বৈজ্ঞানিক নাম

প্রিয় পাঠক বৈজ্ঞানিক নাম হল---CALOTROPIS GIGANTEA LINN R BR

কোন কোন অংশ ব্যবহার করা যায়

প্রিয় পাঠক আকন্দ গাছের কি কি ব্যবহার করা যায় সে সম্পর্কে বলবো

আকন্দ গাছের মূল এছাড়া মূলের ছাল পাতা ফুল কষ ব্যবহার করতে পারবেন

রসায়নিক উপাদান কি কি রয়েছে

প্রিয় পাঠক আকন্দ গাছের মধ্যে কি কি রাসায়নিক উপকরন রয়েছে তা আমি আপনাদেরকে বলবো

কেনট্রপিন আসচ্চার ইন/ কার্ডিয়াক গ্লাইকোসাইড

প্রধান কাজ

প্রিয় পাঠক এটা কোন কোন কাজের জন্য বিশেষভাবে ব্যবহার করা হয় সেটা এখন আমরা জানবো

এটা মূলত বায়ু নাশক পাকস্থলীর ব্যথা নিবারক হজম কারক ও শ্বাসকষ্টে উপকারী মূলত এগুলি জন্য ব্যবহার করা হয়

হজম শক্তি বৃদ্ধি করার জন্য ব্যবহার করা হয় ও পাকস্থলীর ব্যথা দূর করার জন্য ব্যবহার করা হয়

প্রিয় পাঠক পাকস্থলীর ব্যথা নিরসন ও হজম শক্তি বৃদ্ধিতে খাবারের পর ৫০০ মিলিগ্রাম ফুল চূর্ণ সামান্য পরিমাণ গোলমরিচ ও সৈন্যব লবণ সহ দিনে দুইবার সেবন করলে পাকস্থলীর ব্যথা দূর হয় এবং হজম শক্তি বৃদ্ধি পায়

বাতের ব্যথা ও ফোলা দূর করার জন্য ব্যবহার করা হয়

প্রিয় পাঠক বাতের ব্যথা বা ফোলা দূর করতে কাঁচা পাতা গরম করে আক্রান্ত স্থানে দিনে তিন থেকে চারবার শেখ দিলে ব্যথা দূর হয়ে যায়

দাউদের চিকিৎসার জন্য এবং বিচ্ছুর কামড় এর জন্যব্যবহার করা হয়

প্রিয় পাঠক অনেকের দাউদ রয়েছে দাউদের চিকিৎসায় ও বিচ্ছুর কামড়ে আক্রান্ত স্থানে গাছের কস দিনে দুই থেকে তিনবার লাগালে দাউদ ভালো হয়ে যায় এবং বিচ্ছুর কামড় স্থানে লাগালে জ্বালাপোড়া যন্ত্রণা দূর হয়ে যায়

ফুট দূর করার জন্য ব্যবহার করা হয়

ফোড়া ফাটানোর জন্য আকন্দ পাতা বাহ্যিক ব্যবহারে আপনার ফুট ফেটে যায়

অর্শ বলির জন্য ব্যবহার করা হয়

প্রিয় পাঠক অর্শ বলিতে পাতার ধোঁয়া ব্যবহারে কয়েকদিনের মধ্যে অশ্ববলী চুপসে যায়

আজীর্ণ হলে ব্যবহার করা হয়

হলে আকন্দের ফুলকে রোদে ভালোভাবে শুকিয়ে গুড়া করতে হবে প্রতিদিন দুপুরে ভাত খাওয়ার পর এক চা চামচ করে খেলে অজীর্ণ দূর হয়ে যাবে

হাঁপানির রোগের জন্য ব্যবহার করা হয়

হাঁপানি রোগের জন্য প্রিয় পাঠক আকন্দ তুলার বালিশে ঘুমালে হাঁপানি নাশ হয় এবং হেরে মাথা বা শিশুদের বড় মাথা ছোট হয়ে যায়

ছুলি ও মেছতার জন্য ব্যবহার করা হয়

প্রিয় পাঠক আমাদের অনেকের মুখে ছুলি ও মেছতা রয়েছে সেই জন্য এই আকন্দ কিভাবে ব্যবহার করবেন

ছুলি ও মেছতায় মুখের কালো দাগ বা মেছতা হলে কিংবা গায়ের ছুলে পড়লে সৌন্দর্য ও লবণ্য নষ্ট হয়ে যায় গোসলের এক ঘন্টা আগে ৩ গ্রাম হলুদের গোড়া ও আপনদের পাঁচ থেকে ছয় ফোঁটা আঠা মিশিয়ে লাগালে দুটো রোগী ভালো হয়ে যায়

একজিমা ও চর্ম রোগের জন্য ব্যবহার করা হয়

প্রিয় পাঠক যাদের একজিমা রয়েছে বা চর্মরোগ রয়েছে তাদের জন্য এ আকন্দ পাতা একজিমা ও চর্মরোগে ১৬ ফোটা আকন্দের আঠা সমপরিমাণ তিল তেল এবং এক ফোঁটা হলুদের গোড়া মিশিয়ে মলম তৈরি করে রাতে ঘুমানোর আগে মাত্র একবার লাগালে ইনশাল্লাহ ভালো হয়ে যাবে

বিচ্ছুর কামড় দূর করার জন্য ব্যবহার করা হয়

প্রিয় পাঠক আমরা অনেকেই কাজ করে থাকি এবং বাসার ভিতর অনেক সময় বিচ্ছু একাউন্ট দিতে পারে সেজন্য বীরচর কামড়ে প্রথমে ধারালো ব্লেড দিয়ে বিচ্ছুর হুল বের করে নিতে হবে এরপর সেই জায়গায় আকন্দের আঠার প্রলেপ দিয়ে নিশ্চিত ইনশাল্লাহ

কানের যন্ত্রণার জন্য ব্যবহার করা হয়

প্রিয় পাঠক অনেকের কানের যন্ত্রণা হয় সেজন্য তারা অনেক চিন্তিত রয়েছেন কানের যন্ত্রণায় আকন্দ পাতায় পুরনো গাওয়া ঘি মেখে সে পাতাকে আগুনে ভালোভাবে শেখে নিতে হবে এরপর পাতাকে নিংড়ে কানে দিয়ে তোলা দ্বারা কান বন্ধ করা দরকার মাত্র দুইদিন প্রয়োগ করলে ইনশাল্লাহ আরাম হয়ে যাবে

রক্ত আমাশয়ের জন্য ব্যবহার করা হয়

প্রিয় পাঠক আমাদের মধ্যে অনেকের রক্ত আমাশা রয়েছে তাদের জন্য রক্ত আমাশয়ে পাঁচ গ্রাম শিকড়ের ছাল পরিষ্কার পানিতে বেটে তার পুরো রস একটি কাঁচের গ্লাসের রাখতে হবে এরপর ওই রসে সরষে দানা পরিমাণ আফিম মিশিয়ে সকালের সন্ধ্যা দুইবার খেলে রোগী ভালো হয়ে যাবে তবে রোগীর সামান্য তন্দ্রা ভাব আসতে পারে এতে দুশ্চিন্তার কোন কারণ নেই

সর্দি লাগলে ব্যবহার করা হয়

বুকে সর্দি বসে গেলে কি করবেন যাদের অত্যন্ত সর্দি রয় সর্দি ভালই হয় না তাদের জন্য বুকে সর্দি বসে যাওয়াই রোগী হাঁসফাঁস করছে এমন অবস্থায় বুকে পুরাতন ঘি মালিশ করতে হবে তারপর আকন্দ পাতা গরম করে বুকের উপর লাগালে এসে সর্দি ইনশাল্লাহ আরাম হয়ে যাবে

আকন্দ গাছের আরো অপকরণ

প্রিয় পাঠক এছাড়াও আকন্দ গাছের আরো নানান উপকরণ রয়েছে যেমন সেত রোগ ভালো হয়ে যায় টিউমার অর্শ পিত্তের রোগ পেটের রোগ ক্রিমিনাসক ও দাস্ত পরিষ্কারক ভালো হয় তার জন্য শুকনা গাছ গুড়া করে দুধের সাথে খেলে ভালো টনিকের কাজ করে এছাড়াও আকন্দ হৃদরোগের জন্য অনেক উপকারী এছাড়াও আকন্দ যৌন ব্যাধির জন্য খুব কার্যকর এছাড়াও যাদের জ্বর হয় এবং তা থেমে যায় আবার পরে এসে যায় তাদের জন্য এই আকন্দ গাছের উপকরণ রয়েছে

সেবন বিধি

প্রিয় পাঠক এতক্ষণ পর্যন্ত আকন্দ গাছের বিভিন্ন নানান দিক সম্পর্কে আলোচনা করা হলো গুণাগুণ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো তবে এটাকে কিভাবে সেবন করব সে সম্পর্কে জানা হলো না এখন সেটা আমি আপনাদেরকে জানাবো

ফুল চূর্ণ ৫০০ মিলিগ্রাম পাতা ও কোষ প্রয়োজন মত ব্যবহার করতে পারবেন এছাড়া নির্দিষ্ট রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের কাছে পরামর্শ নিয়ে ব্যবহার করবেন

সতর্কতা

প্রিয় পাঠক একটা জিনিসের যেমন ভালো দিক রয়েছে তেমনি এর খারাপ দিকে রয়েছে এজন্য সতর্কতা স্বরূপ নির্দিষ্ট মাত্রার অধিক ব্যবহার করা উচিত নয় এছাড়াও আকন্দ গাছের রসে রয়েছে টক্সিক বিষাক্ত কিছু উপাদান যা গর্ভপাত ঘটাতে পারে

শেষ কথা

প্রিয় পাঠক এতক্ষণ পর্যন্ত আপনারা আকন্দ গাছের নানান গুনাগুন সম্পর্কে জানতে পারলেন যদি আপনার এখান থেকে উপকৃত হয়ে থাকেন তাহলে আপনার বন্ধু বান্ধবের কাছে কপি লিংক এর মাধ্যমে শেয়ার করুন এবং আপনি যদি আর কিছু জানতে চান তাহলে আমাদেরকে কমেন্ট সেকশনে জানিয়ে দিন এবং আমাদের ওয়েবসাইটটি ফলো করে দেন যাতে করে পরবর্তী নোটিফিকেশন পেতে পারেন ধন্যবাদ

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url